

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে প্রতি ৩৪ মিনিটে একটি বিয়ে এবং প্রতি ৭৫ মিনিটে একটি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা ঘটছে। কুয়েতের বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা দপ্তর দেশটির শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের তথ্যের ভিত্তিতে এই চিত্র তুলে ধরেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কুয়েতের প্রভাবশালী দৈনিক কুয়েত টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বর মাসে কুয়েতে শরিয়া নোটারাইজেশন সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ওই মাসে বিয়ে, বিয়ের সত্যায়ন, তালাক, পুনর্মিলন, সরকারি নোটিশ ও ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত মোট ১০ হাজারের বেশি লেনদেন নথিভুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বিয়ে ও পুনর্মিলনসংক্রান্ত মোট ১ হাজার ২৫২টি লেনদেন নিবন্ধিত হয়। এতে গড়ে প্রতিদিন ৪২টি লেনদেন হয়েছে, যা হিসাবে প্রতি ৩৪ মিনিটে একটি করে বিয়ে বা পুনর্মিলনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, একই মাসে মোট ৫৯৫টি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক নিবন্ধিত হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে, অর্থাৎ প্রতি ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে একটি তালাক নথিভুক্ত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে বিয়ে চুক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৩টি, যা গড়ে প্রতিদিন ৩৮টি। এসব বিয়ের মধ্যে ৭৩ শতাংশের বেশি কুয়েতি নাগরিকদের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কুয়েতি নন—এমন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ছিল ১৬ শতাংশের বেশি।
এ ছাড়া কুয়েতি পুরুষ ও কুয়েতি নন এমন নারীর মধ্যে বিয়ের হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কুয়েতি নন এমন পুরুষ ও কুয়েতি নারীর মধ্যে বিয়ের হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
ওই মাসে বিয়ে সত্যায়নসংক্রান্ত ১০৯টি চুক্তি নিবন্ধিত হয়, যা গড়ে প্রতিদিন ৩ দশমিক ৬টি। এসব চুক্তির মধ্যে কুয়েতি স্বামী ও কুয়েতি নন এমন স্ত্রীর মধ্যে বিয়ে সত্যায়নের হার ছিল সর্বাধিক—প্রায় ৫৪ শতাংশ। তবে কুয়েতি দম্পতিদের মধ্যে কোনো বিয়ে সত্যায়ন চুক্তি নথিভুক্ত হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিয়েসংক্রান্ত লেনদেনের প্রায় ৭৪ শতাংশ আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিয়ে চুক্তির প্রায় ৮২ শতাংশ বিদেশে নথিভুক্ত হলেও শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ।
তালাকসংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে নথিভুক্ত ৫৯৫টি তালাকের মামলার মধ্যে কুয়েতি দম্পতিদের তালাকের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ সময় ৯২টি পুনর্মিলন মামলা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় তিনটি। এসব মামলার প্রায় ৮৬ শতাংশ পুনর্মিলন সনদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি নোটিশ ও ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত লেনদেন মিলিয়ে নভেম্বর মাসে মোট ৫২ হাজার ৩৫৯টি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন এসব লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭৪৫টি। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন সরকারি মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে। অনলাইনে ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত কার্যক্রম ছিল মাত্র ৫৮টি।



