জাতীয়

রাকসুর ভিপি ও আম্মারের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) মোস্তাক-আম্মার প্যানেলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

মিছিল থেকে রাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল—‘ক্যাম্পাসের নতুন চোর, রাকসু তুই টাকা চোর’, ‘হৈহৈ রৈরৈ, আমার টাকা গেলো কই’, ‘ভিপির বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘জিএসের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ এবং ‘আমার টাকা গেলো কই, রাকসু তুই জবাব দে’।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ রাকসুর নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসুর নেতাদের এক বছরের মধ্যে এত টাকা কীভাবে বরাদ্দ বা ব্যয় করা হলো, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অভিযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে রাকসুর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বড় পর্দা ব্যবহারে যেখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল, একই ধরনের পর্দা ব্যবহারে রাকসুর ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, রাকসুর বিভিন্ন সম্পাদকের কাছে ব্যয়ের হিসাব জানতে চাওয়া হলেও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাৎ হয়ে থাকলে তা উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের ফেরত দেওয়ারও দাবি জানান রাহী।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগামী রোববার উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবে শাখা ছাত্রদল।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এদিকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাকসুর এ বছরের মোট বরাদ্দ প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে এটি মোট বরাদ্দের পরিমাণ, উত্তোলন করা অর্থের পরিমাণ নয়। প্রকৃত ব্যয়ের তথ্য জানতে রাকসুর ট্রেজারারের দপ্তর থেকে কত টাকা উত্তোলন হয়েছে, তা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জিএস হিসেবে তিনি রাকসুর অফিস প্রধান। জানুয়ারি মাসের প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সম্পাদক যেসব কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেগুলো সভাপতি অনুমোদন করেন। পরবর্তীতে এসব কর্মসূচির বাজেট জিএস হিসেবে তার নামে আসে।

সালাহউদ্দিন আম্মারের দাবি, ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বিভিন্ন সম্পাদকের কর্মসূচির হিসাবের অংশ। এর অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকা উত্তোলন করেছেন বা অর্থটি তার ব্যক্তিগত—এমনটি নয়। বরং বিভিন্ন সম্পাদকের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই এসব অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button