

স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত আব্দুস সামাদ আজাদ। বিএনপির রাজনীতিতে সিলেট বিভাগ থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন সাবেক অর্থ-পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। এছড়াও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,আবুল মাল আব্দুল মুহিত, হারিছ চৌধুরী এবং গুমের শিকার এম ইলিয়াস আলীরা ছিলেন জাতীয় রাজনীতিতে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। কিন্তু বিগত এক দশক থেকে জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের যে শূণ্যতা দেখা দিয়েছে তা সিলেটিদের জন্য হয়ে উঠেছিল অনেক দুঃশ্চিন্তার কারণ। যেই সিলেট হযরত শাহজালাল (র:) শাহপরান (র:) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সেই সিলেটে জন্ম হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর। এই সিলেট কি জাতীয় নেতৃত্বশূন্য থাকতে পারে ! এইতো কিছুদিন পূর্বেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মী (বিশেষ করে সিলেট এবং যুক্তরাজ্য) ছাড়া যিনি ছিলেন সিলেট তথা দেশ-বিদেশের সকলের নিকট অপরিচিত তিনি এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস আদালত তথা সারা বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী ও ভিনদেশীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বলছি হুমায়ুন কবিরের কথা, তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করেন ও দি লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (LSE) থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ থেকে ম্যানেজম্যান্ট বিভাগে মাস্টার্স (Msc) সম্পন্ন করেন এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইন বিভাগে মাস্টার্স (LLM) সম্পন্ন করে।
পেশাগত জীবনে দায়িত্বপালন করেন কৌশল সহকারী হিসেবে লন্ডন মেয়রের দপ্তর ক্যাবিনেট উপদেষ্টা, লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয় যুক্তরাজ্যের জাতীয় সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক সচিবের ব্যক্তিগত দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে (প্রথমে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বরিস জনসনের অধীনে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে ঈঙচ২৬ টিমে, পরে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে)
এছাড়াও ন্যায় মন্ত্রণালয়ে (Justice Ministry) এ একাধিক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন।
চলতি বছরের কয়েক মাস পূর্বে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনুসের সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে উপস্থিতি হয়ে সিলেটবাসীর নজর আসেন, শুরু হয় আলোচনা আর বিশ্লেষণ। হুমায়ুন কবির ইতিপূর্বে দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য (সমমান মর্যাদা) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও। ইতিমধ্যে চমক হিসেবে তিনি বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব দায়িত্ব পাওয়ার পর দেশের রাজনীতির আলোচিত ব্যাক্তি আবুল হারিছ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হন। সিলেটের বিএনপি নেতাকর্মীরা এই নেতাকে কাছে পেয়ে খুবই উচ্ছ্বাসিত দেখা যাচ্ছে। তবে সব থেকে বেশি উৎসাহ উদ্দীপনায় দেখা যাচ্ছে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথবাসীকে বিএনপির দূর্গ খ্যাত সংসদীয় আসন সিলেট-২ (ওসমানীনগর- বিশ্বনাথ)।
বিএনপির ঘাটি-খ্যাত এই আসনে হঠাৎ করে আশার প্রদীপ হয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে এই অঞ্চলের রাজনীতিকে চমকে দিয়েছেন বিএনপির সদ্য যুগ্ম-মহাসচিব পদ পাওয়া হুমায়ুন কবির। এরই মধ্যে বিগত কিছুদিন পূর্বে তিনি সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বলে প্রচারণা শুরু করেন। এই বিষয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৫ অক্টোবর রবিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতিসংঘের ঢাকার আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের সঙ্গে বৈঠককালে পরিচয় পর্বে ইঙ্গিত প্রদান করেন। বৈঠকের শুরুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এখন থেকে হুমায়ুন কবির দেশেই থাকবেন এবং নির্বাচন করবেন প্রতুত্তরে জাতিসংঘের ঢাকার আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, তিনি এ বিষয়টি জানেন এবং কোন আসন থেকে কাকে টেকওভার করা হচ্ছে তাও তিনি জানেন, এ সময় হুমায়ুন কবিরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, সিলেট থেকেই পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছে বলেও জানেন তিনি। বৈঠকের শুরুতে এক ভিডিওতে দুই পক্ষের পরিচয়পর্বে এসব আলোচনা হয় বলে দেখা গেছে এক ভিডিও চিত্রে। প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে তাহলে কি তিনি সিলেট-২ থেকেই নির্বাচন করবেন, নাকি অন্য কোন আসন থেকে ?
এ বিষয় এ সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ওসমানীনগর এর বাসিন্দা সৈয়দ এনায়েত হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, হুমায়ুন কবির এর মতো নেতাকে পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত, তিনি আরও বলেন হুমায়ুন কবির আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত ব্যাক্তিত্ব, বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন অগ্রগতির জন্য সিলেট-২ থেকেই হুমায়ুন কবিরকে সংসদ সদস্য হিসেবে ওসমানীনগর-বিশ্বনাথবাসী দেখতে চায়।
নির্বাচন করা না করার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে আমাকে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেছেন যা আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি, আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর প্রতি যিনি ইতিমধ্যে আমাকে যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেছেন, দলের একজন কর্মী হিসেবে নির্বাচন করার আকাঙ্খা আছে এবং নির্বাচনের প্রস্তুতিও রয়েছে তবে দল ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ এবং সিলেট তথা দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে আলোচনায় ঝড়। এদিকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটি নেটিজেনরা দেখছেন হুমায়ুন কবির এর মাধ্যমেই জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের আশার প্রদীপ।



