

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান নগদে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আতিক মোর্শেদ। বিভিন্ন অভিযোগ ও সূত্রে এ ঘটনায় নগদের ডেপুটি সিইও মুয়ীজ নাসনিম ত্বকির নামও সামনে এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নগদের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও আতিক মোর্শেদ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ের ষষ্ঠ তলায় ব্যক্তিগত অফিস ব্যবহার করতেন। এছাড়া তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ এবং কয়েকজন আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টিকে অনেকে প্রভাব খাটানো ও স্বজনপ্রীতির উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
সূত্রগুলো দাবি করছে, এ আর্থিক অনিয়মে নাহিদ ইসলাম সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না—তা এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তিনি তথ্য উপদেষ্টা থাকাকালে আতিক মোর্শেদের প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান না হওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের তদন্ত চলাকালে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মুয়ীজ নাসনিম ত্বকিকে পরে কারাগারে না পাঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে আতিক মোর্শেদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে কার প্রভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি।
এদিকে নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন সময়ে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নতুন দল গঠনের জন্য প্রাপ্ত অনুদানের কথা উল্লেখ করলেও সেই অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। কেউ কেউ জানতে চাইছেন, নগদ থেকে আত্মসাতের অভিযোগে উল্লিখিত অর্থ রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম ও আতিক মোর্শেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত পর্যন্ত তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নগদ কর্তৃপক্ষও অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর। সঠিক তথ্য উদঘাটনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই একমাত্র উপায়, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে জনমত।



