ধর্ম

শবেবরাতে কি মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়? ইসলামি স্কলারদের মতে কী নির্দেশ আছে?

শবেবরাত: মুক্তির রাত এবং মানুষের ভাগ্য

শবেবরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত, ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আরবি শব্দ ‘বারাআত’-এর অর্থও মুক্তি। তাই শবেবরাতের অর্থ “মুক্তির রাত”। প্রতি বছর হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতটি শবেবরাত হিসেবে পালন করা হয়।

হাদিসে রাতটিকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা “শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী” বলা হয়েছে। বলা হয়েছে যে এই রাতে বান্দাকে আল্লাহ তায়ালা তার গোনাহ থেকে মুক্তি দিয়ে ক্ষমা করেন। ফারসিতে এটিকে ‘শবেবরাত’ বলা হয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শবেবরাতকে ঘিরে বিভিন্ন বিশ্বাস প্রচলিত। এর মধ্যে একটি হলো, শবেবরাতে মানুষের ভাগ্য লেখা হয়।

কিন্তু ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, এটি ভিত্তিহীন ধারণা। শবেবরাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় না। মানুষের তাকদির লিপিবদ্ধ হয় শবেকদর-এ।

আহমাদুল্লাহ জানান, কোরআনে মহান আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে বলেছেন যে ভাগ্য নির্ধারণ হয় বরকতময় রাতে।

ইরশাদ হয়েছে:

حٰمٓ. وَ الۡكِتٰبِ الۡمُبِیۡنِ. اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃٍ مُّبٰرَكَۃٍ اِنَّا كُنَّا مُنۡذِرِیۡنَ. فِیۡهَا یُفۡرَقُ كُلُّ اَمۡرٍ حَكِیۡمٍ. اَمۡرًا مِّنۡ عِنۡدِنَا اِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِیۡنَ
অর্থ: হা-মিম! সুস্পষ্ট কিতাবের কসম! নিশ্চয়ই আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে, আমি তো সতর্ককারী। সে রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয় আমার নির্দেশে। আমিই রাসুল প্রেরণকারী। (সুরা দুখান ১-৫)

এছাড়া মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন:

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنٰهُ فِیۡ لَیۡلَۃِ الۡقَدۡرِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। (সুরা কদর : ১)

শায়খ আহমাদুল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায় মানুষের ভাগ্য শবেকদর-এ লিপিবদ্ধ হয়, শবেবরাতে নয়।

অতএব, শবেবরাত মূলত মুক্তির রাত, যেখানে গোনাহ ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়, কিন্তু এটি মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button