

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরা কয়েকজন হাজির লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মূল্যবান সামগ্রী খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীদের একজনের সন্তান ও আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি তদন্তে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ৩টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে লাগেজ গ্রহণের সময় কয়েকজন যাত্রী তাদের ব্যাগে কাটার চিহ্ন এবং ভেতরের কিছু মূল্যবান সামগ্রী অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাশ দাবি করেন, প্রায় ১৫০ জন হাজির লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকের ব্যক্তিগত ও মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, হজ শেষে পরিবারের জন্য আনা উপহারসামগ্রী চুরির ঘটনায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, তার বাবার লাগেজে কাটার চিহ্ন থাকলেও আগাম সতর্কতার কারণে মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত ছিল। তবে অন্যান্য অনেক যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এবং হজযাত্রীদের লাগেজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। তবে প্রায় ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি ভিন্নমত প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে কয়েকজন হাজি মৌখিকভাবে লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করলেও এ পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছর পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন।



