ক্যাম্পাস

ঢাবিতে নারী হেনস্তার প্রতিবাদে ছেলের হলে দলবেঁধে খেলা দেখলেন মেয়েরা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে এক দম্পতিকে হেনস্তার অভিযোগের প্রতিবাদে মাঠে বসে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী।

রোববার (২৮ জুন) সকালে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ উপলক্ষে তারা শহীদুল্লাহ হলের মাঠে জড়ো হন। এ সময় অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এর আগে শনিবার রাতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রী।

খেলা শেষে সানজানা চৌধুরী রাত্রী বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। সেই আয়োজনের অংশ হিসেবে গত শুক্রবার ফ্রান্স-নরওয়ে ম্যাচ দেখতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের এক সাবেক শিক্ষার্থী তার স্ত্রীকে নিয়ে শহীদুল্লাহ হলে আসেন। তবে সঙ্গে একজন নারী থাকায় হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক সাজু মিয়া ও তার সহযোগীরা তাদের বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক ও হয়রানিমূলক প্রশ্ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে দম্পতিকে খেলা না দেখেই হল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ নারীর প্রতি অবজ্ঞা ও বৈষম্যের বহিঃপ্রকাশ। তাই এর প্রতিবাদ জানাতেই নারী শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে শহীদুল্লাহ হলের মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রক্টর অফিসে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান ফেসবুকে নারী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির ছবি শেয়ার করে অভিযোগের প্রতিবাদ জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব রিফাত রশিদও ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শহীদুল্লাহ হলে নারী শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে খেলা দেখতে যাওয়া নারী অধিকার প্রশ্নে একটি ইতিবাচক বার্তা। তিনি বলেন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্য এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরের অধিকার সচেতন নারীদের একসঙ্গে অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে এক সাবেক শিক্ষার্থী ও তার স্ত্রী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও শিবির নেতা সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নারী সঙ্গে থাকায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত খেলা না দেখেই হল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তবে সাজু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাউকে হেনস্তা করা হয়নি; হলের নিয়ম-শৃঙ্খলার স্বার্থে কেবল তাদের চলে যেতে অনুরোধ করা হয়েছিল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button