জাতীয়

‘বাপেরে ওরা ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে, আর আমরা দুই ভাইয়ে কোপাইছি ওরে’

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি (২৫) নামে এক কম্পিউটার দোকানকর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আবদুল খালেক (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১৪। বৃহস্পতিবার রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহে র‍্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান।

র‍্যাবের ব্রিফিং শেষে ছবি তোলার সময় আবদুল খালেক সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, নিজের বাবাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই রাব্বিকে হত্যা করেছেন। তাঁর দাবি, রাব্বীর পক্ষের লোকজন ২০১৮ সালে তাঁর বাবাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেছিল এবং তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল।

খালেক আরও অভিযোগ করেন, রাব্বীর পক্ষের লোকজন বিভিন্ন দোকান ও ভবন নির্মাণের কাজে চাঁদা দাবি করত। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্ত করে দেখা হয়নি বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একদল ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাব্বির ওপর হামলা চালায়। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা দোকানের ভেতরে ঢুকে রাব্বিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর ভাই মুহাম্মদ রিয়াদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।

পরে গুরুতর আহত রাব্বিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর র‍্যাব-১৪-এর সিপিসি ময়মনসিংহ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় রঘুরামপুর এলাকা থেকে খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১৪-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খালেক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বড় দা থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি চারজন জড়িত থাকতে পারে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপের সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুরোনো বিরোধের পাশাপাশি চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে সালিশের সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরোধের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার খালেকের দেওয়া তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এদিকে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার খালেককে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button