আন্তর্জাতিক

সিরিয়ায় ইরানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঘোষণা করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে হুথিদের তেল, অস্ত্র ও বেসামরিক ও সামরিক কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম স্থানান্তরের নেটওয়ার্ক। আরব নিউজ এই খবরটি রয়টার্সের বরাত দিয়ে প্রকাশ করেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) জানায়, এই পদক্ষেপে ২১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং একটি জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের মধ্যে ইয়েমেন, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানিও রয়েছে।

বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “হুথিরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে।”

ট্রেজারি বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হলো হুথিদের ‘বিস্তৃত রাজস্ব উৎপাদন ও চোরাচালান নেটওয়ার্কের’ ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যা তাদের লোহিত সাগরে হামলা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীল কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য জানাত আল আনহার জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি। সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত এই প্রতিষ্ঠানটি হুথিদের বৈদেশিক আর্থিক নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এটি মূলত হুথি সংশ্লিষ্ট কালোবাজারি রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াজাতকরণে ‘ক্লিয়ারিং হাউস’ হিসেবে কাজ করে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জানাত আল আনহার হুথি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য তহবিল প্রক্রিয়াজাত করে, যা দিয়ে চোরাচালান পণ্য, যন্ত্রাংশ, সরঞ্জাম এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অস্ত্রের চালান কেনা হয়। প্রতিষ্ঠানটি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশের আর্থিক চ্যানেলের সঙ্গে সেতুবন্ধ তৈরি করে, ফলে হুথিরা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, জানাত আল আনহার আসলে আবু সাম্বোল জেনারেল ট্রেডিং এলএলসির নতুন নাম। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি ইরানভিত্তিক হুথি গোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব সম্পদ জব্দ করা হবে। এছাড়া, এই ব্যক্তিদের মালিকানাধীন (৫০ শতাংশ বা তার বেশি) প্রতিষ্ঠানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। বিশেষ লাইসেন্স ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠান বা তাদের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রে বা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রানজিট ব্যবহারে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button