স্থানীয়

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মিফতাহ্ সিদ্দিকীর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেছেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকরা আজ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, অবহেলিত ও হয়রানির শিকার। শ্রমিকদের ঘামে দেশের অর্থনীতি সচল, উন্নয়নের চাকা ঘোরে, অথচ তাদেরই জীবন চলছে অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার মধ্যে। শুক্রবার ৩১ অক্টোবর বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের হাজারো শ্রমিক প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন, কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কাজের নিশ্চয়তা আজ অনুপস্থিত। পাথর কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের পরিবার অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। পরিবেশের অজুহাতে কর্মক্ষেত্র বন্ধ করে দেওয়া হলে তা মানবিক ও অর্থনৈতিকভাবে অন্যায্য হবে। আমরা চাই না শ্রমিকের সন্তান শ্রমিক হোক, কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের পথও বন্ধ করা চলবে না,মন্তব্য করেন মিফতাহ্ সিদ্দিকী।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এসব অধিকার আইনগতভাবে সুরক্ষিত করা হবে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করে কোয়ারিগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে, যাতে ইকোসিস্টেম ঠিক রেখে মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের বীমা ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ হয়েছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি কমিশন কার্যকর করেছিলেন। এখন তারেক রহমান শ্রমিক-কৃষক-জনতার শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র বিনির্মাণের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ শুধু খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ নয়, এটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানকার ইকো-ট্যুরিজম, নদী ও ঝরনানির্ভর পর্যটন শিল্প এবং পরিবেশবান্ধব খনিজ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা এমন উন্নয়ন চাই যা প্রকৃতিকে ধ্বংস নয়, বরং সংরক্ষণ করবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করবে,যোগ করেন তিনি।

তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে।

পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বকসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল আলম রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই শ্রমিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু, গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক মদরিস আলী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজ শামসী, জৈন্তাপুর উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিলাল আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান হেলোয়ার, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রহিম উদ্দিন, বৃহত্তর জৈন্তা পাথর শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, ইউপি সদস্য কামাল আহমদ এবং জাফলং ট্রাক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া প্রমুখ।

সমাবেশে কয়েক সহস্রাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতি জাফলংয়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করে।

মানুষের ঘামেই দেশ চলে, কিন্তু সেই শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই যেন তার অধিকারও শুকিয়ে না যায়-এ বার্তা নিয়েই প্রতিধ্বনিত হলো জাফলংয়ের শ্রমিক সমাবেশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button