

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
তাসনিম জারা বলেন, সরকার বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা বেসরকারি খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন, বাসার মিটার ও মাসিক বিলসহ বিতরণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি কোম্পানির হাতে চলে যেতে পারে।
তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ বিতরণে একাধিক কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতার সুযোগ না থাকায় গ্রাহকদের হাতে বিকল্পও থাকবে না। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি কোম্পানির অবকাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে সেই কোম্পানির ওপর গ্রাহকদের নির্ভরশীল হতে হবে। এতে কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ বা সেবা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হলেও সেখানে শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর স্বাধীনভাবে অবস্থান নেওয়ার নজির খুবই কম।
তাসনিম জারা আরও বলেন, সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় লোডশেডিং কিংবা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের মতো সমস্যার জন্য সরকারের জবাবদিহির সুযোগ থাকে। কিন্তু বেসরকারি কোম্পানিগুলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এবং তাদের সরিয়ে দেওয়ারও সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেই।
দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। তার আশঙ্কা, একবার ২০ থেকে ২৫ বছরের জন্য কোনো চুক্তি করা হলে সরকার পরিবর্তনের পরও তা সহজে পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে বর্তমান সরকারের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে জনগণকে ভোগ করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



