

সিলেটের কাজিরবাজার ব্রিজে কিশোর গ্যাংয়ের হাতে স্কুলছাত্র রিফাত আহমদ হত্যার ঘটনায় ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সিলেট নগরী ও নিহতের গ্রামের বাড়িতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চলছে।
রোববার সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একজন স্কুলছাত্র হত্যার ঘটনায় শুধু তার পরিবার নয়, পুরো এলাকার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে নিহত রিফাতের মা ডলি বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের মতো আর কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয়। পুলিশ আজ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে গত ৫ আগস্ট গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনায় হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে সিলেট নগরীর কাজিরবাজার সেতুর ওপর একদল কিশোরের ছুরিকাঘাতে নিহত হয় রিফাত আহমদ (১৫)। সে নগরীর খাসদবির দারুস সালাম বন্ধন জি-৩ এলাকার বাসিন্দা মিফতাহ উদ্দিনের ছেলে এবং স্থানীয় দ্বীপশিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। ফুটবল খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার তিন দিন পর, ৩০ জুলাই রিফাতের মা ডলি বেগম বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির জানিয়েছেন, আসামিরা স্থান পরিবর্তন করায় তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।



