

পবিত্র রমজান উপলক্ষে ইফতার সহায়তার জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে আলোচনা তৈরি করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ)।
নির্বাচনে ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রায় ২১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৭৮,১৩১ ভোট, আর ফুয়াদ পেয়েছেন ৫৭,১৪৯ ভোট।
অর্থ সহায়তা নিয়ে বিতর্ক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক লাইভে ফুয়াদ দাবি করেন, বাবুগঞ্জ ও মুলাদী এলাকার ৬০০-এর বেশি মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় রমজানে ইফতার চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, নদীঘেরা এলাকা হওয়ায় যোগাযোগ ব্যয় ও বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির কারণে ব্যয় বেড়েছে। তাই “শুধু দোয়া নয়, বাস্তব সহযোগিতা” প্রয়োজন।
তবে এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি সামাজিক মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ টাকা অর্থ সহায়তা সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমা অতিক্রমের প্রশ্নও উঠেছে। যদিও ৭ জানুয়ারি দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, অতিরিক্ত অনুদান বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং অডিট করে হিসাব প্রকাশ করা হবে।
পাল্টা অভিযোগ
সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের সময় ফুয়াদ প্রকাশ্যে চাঁদা তুলেছেন এবং ভোটে পরাজয়ের পর ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে এনে আবারও অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তিনি দাবি করেন, মানুষের পাশে বাস্তবে তাকে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ইফতার সহায়তার আহ্বানে ফুয়াদ রাজনৈতিক বক্তব্যও যুক্ত করেন। তিনি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ ও ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের আগে ও পরে অর্থ সংগ্রহের প্রকাশ্য আহ্বান—এই দুই বিষয় মিলিয়ে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিতর্কের বিষয়ে ফুয়াদের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।



