জাতীয়

বিদ্যুৎ সংকটে এমপিদের মান-সম্মান নিয়ে টিকে থাকা দায়: সংসদে হানজালা

নিজ নির্বাচনী এলাকায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে এলাকায় মান-সম্মান নিয়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে হানজালা বলেন, এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে গভীর রাতেও সাধারণ মানুষ সংসদ সদস্যকে ফোন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য জনপ্রতিনিধিরাই দায়ী। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি তাদের বোঝানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংসদে বিদ্যুৎমন্ত্রীর অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী উপস্থিত থাকলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ও জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি সরাসরি তুলে ধরা যেত। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সরকারের কাছে দ্রুত বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

বাজেট আলোচনায় তিনি দেশের পাঠ্যপুস্তকের বিষয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ বছরে পাঠ্যপুস্তক থেকে হাজি শরীয়তউল্লাহ, শাহজালাল, শাহ পরান এবং তিতুমীর–এর মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বা বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব ইতিহাস দেশের তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সংগ্রামের চেতনা শেখাত।

নিজের পূর্বসূরি হাজি শরীয়তউল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন ও ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী দিনের পাঠ্যপুস্তকে এসব ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদান পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

প্রবাসীদের দুর্ভোগের বিষয়ও সংসদে তুলে ধরেন হানজালা। তিনি বিমানবন্দরে হয়রানি, পাসপোর্ট জটিলতা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)–সংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় বাজেট উপস্থাপন করেছেন। তবে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button