
সিলেটে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ থামাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পিকআপের চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উত্তর জোনের আম্বরখানা-তেমুখী এলাকায় চেকপোস্ট ডিউটি চলছিল। এ সময় সুবিদবাজার এলাকায় একটি পিকআপ (রেজি: সিলেট মেট্রো-ন-১৫-০৭১৭) মদিনা মার্কেটের দিক থেকে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে সুবিদবাজারের দিকে আসতে দেখা যায়।
কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দিলে চালক তা অমান্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করে। পরে সার্জেন্ট সত্যজিৎ দাস একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠে পিকআপটির পিছু নেন এবং একাধিকবার থামার নির্দেশ দেন। তবে চালক আরও বেপরোয়া গতিতে লামাবাজার, জিতু মিয়ার পয়েন্ট ও কাজীরবাজার ব্রিজ অতিক্রম করে বাবনা পয়েন্টের দিকে চলে যায়।
পরে বাবনা পয়েন্ট এলাকায় যানজট থাকায় স্থানীয় সিএনজি চালক ও জনতার সহায়তায় পিকআপটি থামানো সম্ভব হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা চালককে মারধর শুরু করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে।
এদিকে রাত আনুমানিক ২টার দিকে লাউয়াই পুলিশ বক্সের পেট্রোল ডিউটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পিকআপ চালক জুয়েল আহমেদ (৩৫) হঠাৎ এএসআই (নিঃ) অরুন চন্দ্র কৈরীর ডান গালে ঘুষি মেরে তাকে আহত করেন। একই সময় চালকের পক্ষ নিয়ে ৮-১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং কর্তব্যকাজে বাধা দেয়।
পরে আহত চালক জুয়েল আহমেদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। আহত এএসআই অরুন চন্দ্র কৈরী সিলেট বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পিকআপটি জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা নং-০৮, তারিখ ১১ মার্চ ২০২৬, পেনাল কোড ১৮৬০-এর ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৫৩/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া আসামি জুয়েল আহমেদ (৩৫), পিতা মৃত বাবুল মিয়া, গ্রাম খোজারখলা, থানা দক্ষিণ সুরমা, সিলেট—কে চিকিৎসা শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



