

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন সাফল্য দেখালেন চীনের শানডং প্রাদেশিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এক কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার নারীর বিচ্ছিন্ন হওয়া কান তাঁর পায়ের পাতায় সাময়িকভাবে প্রতিস্থাপন করে সেটিকে জীবিত রাখা হয় এবং কয়েক মাস পর সফলভাবে পুনরায় তাঁর মাথায় স্থাপন করা হয়েছে। এটি বিশ্বের প্রথম এই ধরনের অস্ত্রোপচার।
২০২৫ সালের এপ্রিলে এক ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় ওই নারীর মাথার চামড়া এবং একটি কান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ভারী যন্ত্রপাতির টানে তাঁর মুখমণ্ডল এবং ঘাড়ের ত্বকও ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা দেখেন, মাথার চামড়ার টিস্যু এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সরাসরি কানটি সেখানে জোড়া লাগানো সম্ভব নয়।
হাসপাতালের মাইক্রোসার্জারি ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক কিউ শেনকিয়াং এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। কানটিকে পচন থেকে বাঁচাতে এবং প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন সচল রাখতে সেটিকে ওই নারীর পায়ের পাতার ত্বকের নিচে প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল পায়ের রক্তনালীর সাহায্যে কানটিকে সজীব রাখা, যতক্ষণ না মাথার ক্ষত সেরে সেখানে কান পুনরায় স্থাপনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়।
দীর্ঘ কয়েক মাস কানটি ওই নারীর পায়ে সংরক্ষিত থাকার পর, সম্প্রতি চিকিৎসকরা সেটিকে পা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সফলভাবে তাঁর মাথায় পুনরায় প্রতিস্থাপন করেছেন। বর্তমানে কানটি সুস্থ অবস্থায় আছে এবং সেখানে রক্ত সঞ্চালনও স্বাভাবিক।



