

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি কোনো ধনী পরিবারে জন্ম নেননি; আল্লাহর রহমতে তিনি একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তাই কৃষক-শ্রমিকদের অসম্মান করা মানে তার বাবাকে অপমান করার শামিল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিমুলবাখ দক্ষিণহাটি এলাকায় জামায়াত সমর্থক শাহ আলমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সাধারণ মানুষকে সম্মান করা তার ঈমানি দায়িত্ব। কৃষক-শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করেন এবং তাদের ঘামের গন্ধ তার কাছে আতরের মতো মনে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ কেউ দরিদ্র মানুষের সঙ্গে হাত মেলানোর পর আড়ালে গিয়ে হাত মুছে ফেলেন; কিন্তু তিনি শ্রমজীবী মানুষের ঘামকে সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, দুই শ্রেণির মানুষের সান্নিধ্যে তিনি বিশেষ আনন্দ পান—নিষ্পাপ শিশু, যাদের কাছে গেলে ফেরেশতার সান্নিধ্যের অনুভূতি হয়; এবং দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের জন্য হালাল খাবার জোগান দেন।
স্মরণসভায় তিনি শাহ আলমের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, যতদিন সংগঠনের দায়িত্বে থাকবেন ততদিন এই দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আব্দুস ছালামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নিকলী উপজেলার ছাতিরচরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সকাল ৮টার দিকে তিনি সড়কপথে কিশোরগঞ্জ শহরে পৌঁছান।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনসভা শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুস ছালাম (৬০) নামে এক কর্মী নিহত হন। এছাড়া ৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা মিনি স্টেডিয়ামে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে যাওয়ার পথে স্ট্রোকে শাহ আলম (৫০) নামে এক সমর্থকের মৃত্যু হয়।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, কাপাসিয়ার নবনির্বাচিত এমপি সালাউদ্দিন আইয়ুবী এবং ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ।



