

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালনায় ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।
পাঁচটি অধ্যায়ে সাজানো ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, শ্রমিক ও প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গুরুত্ব পেয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায়ে অর্থনীতির পুনর্গঠন পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার, শিল্প ও সেবা খাতের উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবহন, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়ে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হাওর-বাঁওড় ও উপকূলীয় এলাকার উন্নয়ন, নগরায়ণ, আবাসন, টেকসই ও নিরাপদ ঢাকা গঠন এবং পর্যটন খাত উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতলের জনগোষ্ঠীর অধিকার, ক্রীড়া উন্নয়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা এবং নৈতিক মূল্যবোধ জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।



