

চুনারুঘাটে অবস্থিত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের একটি বেসরকারি সংস্থাকে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সবচেয়ে বেশি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংস্থার কার্যক্রম মূলত সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত বাসার একটি কক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এবং সংস্থার নিজস্ব কোনো কর্মী নেই। তবু পাশা দেশের ১২৭টি আসনে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে।
পাশার কার্যালয় হলো হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে হুমায়ুন কবীরের বসতবাড়ি। বরমপুরের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাড়িটিতে কোনো অফিসের কার্যক্রম হয় না, এটি মূলত পরিবারের আবাসস্থল। অতীতেও সংস্থার ওপর নানা বিতর্ক ছিল; নারীদের চাকরির নামে অভিযোগ ওঠায় পূর্বে ভাড়া নেওয়া অফিস ছেড়ে দিতে হয়েছে। এছাড়া পাশা অতীতে কম খরচে পর্যবেক্ষক কার্ড বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ আছে।
এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পাশার ১০,২৫০ জন অনুমোদিত পর্যবেক্ষক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে মোতায়েন হওয়া পর্যবেক্ষকের সংখ্যা নেই, কিন্তু স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট আসনে অনুমোদিত পর্যবেক্ষক হিসেবে তারা নির্বাচনী এলাকার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। মৌলভীবাজার, সিলেট, নওগাঁ, লালমনিরহাট, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন আসনে পাশার আধিক্য লক্ষ্য করা গেছে।
পাশার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, সংস্থা মূলত ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীদের জন্য অন্যান্য এনজিওর সহযোগী হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে কোনো প্রকল্প নেই, তাই এবার জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের কাজ করা হবে। পর্যবেক্ষণ খরচ বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে অর্থ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করবে, নাহলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা হবে। প্রশিক্ষণ না থাকা বিষয়েও তিনি জানিয়েছেন, শুধু দলনেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিবন্ধনের সময় প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাশার মতো সংস্থার পর্যবেক্ষক মোতায়েন করার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই যথাযথ হয়নি। সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পক্ষপাতদুষ্ট কিছু সংস্থাকেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং ইসির এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ বা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
পাশার উদ্ভট অবস্থান ও অতীত বিতর্ক দেখালে বোঝা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু সংস্থার কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



