রাজনীতি

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এগিয়ে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষ থেকে একাধিক জরিপ ও বিশ্লেষণ চালানো হয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাও পরিস্থিতি মূল্যায়নে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব জরিপের উদ্দেশ্য মূলত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল নির্ধারণ—তাই সেগুলোর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার এমনই একটি প্রতিবেদনের কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্বিক হিসাবে বিএনপি বেশ এগিয়ে রয়েছে। অনেক আসনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি কিছু আসনে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি আসনে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াই হতে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো—পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার অধিকাংশ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও একাধিক আসনে জামায়াত ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলেও বিএনপির সম্ভাবনা বেশি দেখানো হয়েছে। তবে কয়েকটি আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার বেশিরভাগ আসনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও কিছু আসনে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর অঞ্চলেও অধিকাংশ আসনে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও কয়েকটিতে জামায়াত বা অন্য ইসলামী দলগুলোর প্রার্থীর সম্ভাবনার কথাও রয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের বেশিরভাগ আসনে বিএনপি এগিয়ে—তবে একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো—ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর—এ বিএনপির শক্ত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে। রাজধানীর অধিকাংশ আসনেই বিএনপি এগিয়ে থাকলেও কিছু আসনে জামায়াত, খেলাফতপন্থী দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত রয়েছে।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অঞ্চলেও বিএনপি বেশিরভাগ আসনে সম্ভাবনাময়, তবে কয়েকটিতে জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা উল্লেখ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট আসনের বড় অংশে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কিছু আসনে জামায়াতের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সার্বিকভাবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে বহু আসনে একাধিক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকায় ফল নির্ধারণে স্থানীয় সমীকরণ ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button