

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি জানতে পারেন আপনার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। তবে এ অবস্থায়ও আপনার ভোটাধিকার নষ্ট হয় না। আইন অনুযায়ী প্রকৃত ভোটার হিসেবে আপনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন, এমনকি কেউ যদি আপনার নামে প্রতারণা করে আগেই ভোট দিয়ে থাকে তবুও।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী, প্রকৃত ভোটার তার ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। তাই এমন পরিস্থিতিতে বিচলিত না হয়ে নির্ধারিত নিয়মে পদক্ষেপ নিলেই আপনার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
প্রথমেই করণীয় হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানানো। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করুন এবং শান্তভাবে জানান যে আপনার নামে ইতোমধ্যে ভোট দেওয়া হয়েছে।
পরিচয় যাচাইয়ের পর আপনি ‘টেন্ডারড ভোট’ বা ‘প্রদত্ত ভোট’ দেওয়ার আবেদন করতে পারেন। যদি প্রিসাইডিং অফিসার নিশ্চিত হন যে আপনি প্রকৃত ভোটার, তাহলে তিনি আপনাকে একটি বিশেষ ব্যালট পেপার দেবেন, যার পেছনে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ লেখা থাকবে। এতে আপনি আপনার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দিয়ে ব্যালটটি ভাঁজ করে সাধারণ বাক্সে না ফেলে সরাসরি প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দেবেন। পরে এটি আলাদা খামে সংরক্ষণ করা হবে।
এই টেন্ডারড ভোট সাধারণত প্রাথমিক গণনায় ধরা হয় না। তবে কোনো আসনে ফলাফলের ব্যবধান খুব কম হলে বা নির্বাচন নিয়ে আইনি আপত্তি উঠলে আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা হতে পারে। তাই এই ভোটও গুরুত্বপূর্ণ।
উল্লেখ্য, অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা না করে শান্তভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, আইন অনুযায়ী আপনার অধিকার প্রয়োগ করুন এবং নিজের ভোট নিশ্চিত করুন।



