
অবশেষে ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। সব সংশয় ও জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড ও সেলেসাও কোচ কার্লো আনচেলত্তির কঠিন মন গলেছে শেষ মুহূর্তে। সোমবার রাতে দল ঘোষণার সময় যখন নেইমারের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন পুরো মিলনায়তন যেন করতালির গর্জন আর ড্রামের শব্দে কেঁপে ওঠে। ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাসের কারণে কোচকে পরবর্তী খেলোয়াড়দের নাম বলতে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা পর্যন্ত করতে হয়েছিল।
ইনজুরি আর ফিটনেস জটিলতায় দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা নেইমার এবং তাঁর কোটি ভক্তের জন্য এই খবরটি ছিল এক বিশাল স্বস্তির। প্রিয় তারকাকে আবারও বিশ্বমঞ্চে দেখার আনন্দে মাতোয়ারা সমর্থকরা এমনকি নেইমারের বাড়ির সামনে গিয়েও বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন।
নেইমারকে নিয়ে যা বললেন কোচ আনচেলত্তি
দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, “আমরা পুরো বছর জুড়েই নেইমারকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। বিগত বছরটিতে সে নিয়মিত মাঠে ছিল এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থাও বেশ ভালো। এই টুর্নামেন্টে সে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দলে তাঁর ভূমিকা ও দায়িত্ব বাকি ২৫ জন ফুটবলারের মতোই সমান—সে শুরুর একাদশে খেলুক কিংবা বেঞ্চে থাকুক। আমাদের মূল চিন্তার জায়গা ছিল তাঁর শারীরিক ফিটনেস, যা সে দারুণভাবে প্রমাণ করেছে।”
কোচ আরও যোগ করেন যে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই নেইমার নিজেকে শতভাগ ঝালিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। মাঠে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি ভালোবাসা ড্রেসিংরুমের পরিবেশকে চাঙ্গা রাখবে, যা দলের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনতে সাহায্য করবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা
নেইমারের দলে ফেরার খবরে ইন্টারনেট দুনিয়ায় বইছে আনন্দের জোয়ার। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মার্সেলো তাঁর ইনস্টাগ্রামে একটি বিশেষ ভিডিও আপলোড করে সাবেক সতীর্থকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
পিছিয়ে ছিলেন না দেশটির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফ্ল্যাভিও বলসোনারোও। নেইমারের সাথে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখেছেন, “আমি আগেই জানতাম! এবার ব্রাজিলের ঘরে ষষ্ঠ শিরোপা আসছেই!”



