রাজনীতি

ভারত ‘খুনি রাষ্ট্র’ এবং বিএসএফ ‘খুনি বাহিনী’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে সক্ষম হয়। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেন। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা ‘জজ মিয়া’ ধাঁচের বিভ্রান্তিকর তদন্ত গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো এ ঘটনাটির বিচারপ্রক্রিয়াও যেন দীর্ঘসূত্রতায় আটকে না যায়।

সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে আয়োজিত পরিদর্শন কর্মসূচিতে তিনি ভারত ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং সীমান্তে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এছাড়া, গত ৩১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত বেনাপোলের বিপরীতে হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টার ঘটনায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানান।

সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের জীবন-বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা ও আর্থসামাজিক সংকটের কারণে অনেক মানুষ নানা ঝুঁকির মুখে পড়েন। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাহিনীটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত যানবাহন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং সদস্যদের কল্যাণমূলক সুবিধা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বক্তব্যের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও বিচারবহির্ভূতভাবে সীমান্তে তাকে গুলি করে হত্যা করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনের পরিপন্থী। তিনি সীমান্ত হত্যার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে উত্থাপন এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button