জাতীয়

এমএজি ওসমানী মেডিকেলে দেহদানের অঙ্গীকার করলেন মৌলভীবাজারের ‘বৃক্ষকন্যা’ সাদিয়া।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও মানবকল্যাণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের সন্তান মোসাম্মাৎ সাদিয়া আক্তার (ঈশা)। মৃত্যুর পর নিজের দেহ চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে দান করার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

মানবসেবায় এই মহতী উদ্যোগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে।

দিনব্যাপী আয়োজিত আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথিরা সাদিয়া আক্তারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মনিপুরী (পশ্চিমপাড়া) এলাকার বাসিন্দা সাদিয়া তরুণ বয়স থেকেই সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। পাশাপাশি মাদক ও ধূমপানবিরোধী প্রচারণা, দুস্থদের সহায়তা, প্রাণী সংরক্ষণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন।

এ ছাড়া প্রায় চার বছর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে পাঠদান এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছেন সাদিয়া।

পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ‘বৃক্ষকন্যা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২১ এবং পরিবেশবিষয়ক বিভাগীয় পর্যায়ের সম্মাননা-২০২২সহ একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাদিয়ার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলোর একটি হলো মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার। মৃত্যুর পর নিজের দেহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত সমাজে মানবসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সাদিয়া আক্তার বলেন, ভবিষ্যতেও বৃক্ষরোপণ, মাদক ও তামাকমুক্ত সমাজ গঠন, নারী ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চান তিনি।

সাদিয়া আক্তারকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণে উৎসাহিত করার একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় গুণীজনেরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button