

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ তাহের বলেছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরের ব্যর্থ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পর জনগণের মধ্যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা এখন দেশজুড়ে পরিবর্তনের পক্ষে গণসমর্থনের ঢেউ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের তারাশাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ডা. তাহের বলেন, অতীতের কোনো সরকারই দুর্নীতি কমাতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, যাদের সঙ্গে তারা এখন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন, তাদের শাসনামলে বাংলাদেশ একাধিকবার দুর্নীতিতে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। তার ভাষ্য, কেউ যদি আবার দুর্নীতি ও অস্থিরতা দেখতে চায়, তবে সেই শক্তিকেই ভোট দেবে; আর নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ চাইলে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন করতে হবে।
গ্রেপ্তার ও মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ২২ জুলাই তাকে ঢাকা থেকে যৌথ বাহিনী গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কারা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে তিনি প্রথমেই চৌদ্দগ্রামে ফোন করে প্রতিশোধমূলক কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার দাবি, নেতাকর্মীরা সেই নির্দেশ মেনে চলেছেন এবং কারও ওপর অন্যায় আঘাত করা হয়নি।
তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য নৈরাজ্য, সহিংসতা বা লুটপাটের রাজনীতি নয়; বরং শান্তি ও স্থিতিশীলতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে ডা. তাহের বলেন, অতীতে মন্ত্রিসভায় জামায়াতের দুজন সদস্য ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি—এটিকে তিনি তাদের অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



