

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ পাকিস্তান ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে এবং পাশাপাশি একটি অভিনব কৌশলও সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। পাকিস্তানের যুবারা এদিন এমনভাবে লক্ষ্য তাড়া করেছে, যাতে নিজেদের জয়ের পাশাপাশি টুর্নামেন্টের নিয়মের ফাঁক গলে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েও সুপার সিক্সের টিকিট পায়, অন্যদিকে স্কটল্যান্ড বাদ পড়ে যায়।
বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে সমান পয়েন্টে থাকলেও, নেট রান রেটের হিসাবে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে, ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে সুপার সিক্সে জায়গা পেয়েছে তারা। তবে, যদি পাকিস্তান ২৫.২ ওভারের আগেই ১২৯ রানের লক্ষ্য টপকে ম্যাচ জিতে নিত, তাহলে স্কটল্যান্ড সুপার সিক্সে পৌঁছত। পাকিস্তান ১৪ ওভার শেষে ৮৪ রান তোলার পর স্কটল্যান্ডের আশা কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল, কিন্তু পাকিস্তান হঠাৎ করেই রানের গতি কমিয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত তারা ২৬.২ ওভারে ১২৯ রানের লক্ষ্য পূর্ণ করে।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট ও নেট রান রেট যোগ হয়, তবে শুধুমাত্র পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছানো দলের বিপক্ষে খেলা ম্যাচ হিসেবে ধরা হয়। এই হিসাব মাথায় রেখেই পাকিস্তান তাদের রান তাড়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। কারণ, পাকিস্তান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের তুলনায় বড় ব্যবধানে জিতেছিল, যা তাদের নেট রান রেটকে উপরে রাখে। সাবেক জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার পাকিস্তানের কৌশলকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য যুক্তিসংগত কৌশল ছিল।
এদিকে, প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তানের ধীরগতির ব্যাটিং যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে, তবে এটি আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে কি না। আইসিসির কোড অব কন্ডাক্ট অনুযায়ী, “অযথা কৌশলগত কারণে ম্যাচ প্রভাবিত করার চেষ্টা” লেভেল-২ অপরাধ হিসেবে ধরা হয়, যদিও এটি প্রমাণ করা কঠিন।
তবে জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্সে পৌঁছানোর পর পাকিস্তান আবার আগ্রাসী হয়ে ওঠে এবং ৯ রান প্রয়োজন থাকাকালে মিনহাস টানা দুই ছক্কায় ম্যাচ শেষ করেন। তিনি অপরাজিত ৭৪ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন।
ফ্লাওয়ার বলেন, “এটা স্কটল্যান্ডের জন্য কঠিন মুহূর্ত হলেও, পাকিস্তানের কৌশলটি ন্যায্য ছিল এবং খেলাটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেনি।”



