সারাদেশ

লাখাইয়ে সেচ প্রকল্পের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ।

লাখাই প্রতিনিধি।

লাখাই উপজেলার ১ নং ইউনিয়নের রুহিতনসী মৌজায় কুমারুম সেচ স্কীম ও নয়াহাটি সেচ স্কীম প্রকল্প থেকে গত বছর ২০২৪ সনে সারা বছর সেচের পানি নিতে প্রতি ৩৩ শতক জমির জন্য সরকারি দর ১৯ কেজি ধান নির্ধারণ করা হলেও কৃষককে দিতে হচ্ছে দুই থেকে তিন মন ধান। গজারিয়া সেচ স্কীম প্রকল্পের ৩৩ শতকে ৫০ কেজি ধান নির্ধারণ করা হলেও আদায় হচ্ছে আরাই থেকে তিন মন।

এ কারণে লাখাই কুমারুম সেচ স্কীম ও নয়াহাটি সেচ স্কীম প্রকল্প এলাকার ও গজারিয়া সেচ স্কীম প্রকল্প এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা সেচ কমিটি বলছে, কৃষকদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি ধান নেওয়া যাবে না। স্থানীয় কৃষকরা সেচের পানির নেওয়ার জন্য ৩৩ থেকে ১৯ কেজি করে ধান পরিশোধ করবে। একেই ইউনিয়নের রুহিতনসী মৌজায় গজারিয়া ৫০ কেজি দরে নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেচ প্রকল্প এলাকার আলামিন মিয়া সহ কয়েকজন কৃষক জানান, বিগত ১৩ বছর ধরে নয়াহাটি কুমারুন সেচ প্রকল্পের পানি দিয়ে ফসল ফলাচ্ছেন। পানিতে ফসল ফলাতে উৎপাদন খরচ কম হয়। পল্লী বিদ্যুৎ এর আওতায় সেচ প্রকল্প থেকে সারা বছর জমিতে পানি নিতে তাদের দিতে হচ্ছে দুই থেকে তিন মন ধান। কিন্তু সরকারি দর ৩৩ শতকে ১৯ কেজি। রুহিতনসী মৌজায় গজারিয়া সেচ স্কীম এর সরকারি দর ৫০ কেজি আরাই থেকে তিন মন বাড়তি ধান সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মহিবুর রহমানকে দিতে হয়। ম্যানাজার মহিবুর রহমান কৃষককে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে ধান আদায় করছে, আওয়ামী লীগ নেতা মহিবুর রহমানের ১৬ বছর আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে, কৃষকের মতামতের কোন তোয়াক্কা না করে, সেচ প্রকল্প জোর করে দখল করছে গত বছর কম ধরে নিয়ে কৃষকে বিভিন্ন হুমকি দেয়, ভয়ে কৃষক কথা বলার সাহস পাচ্ছে না।

রুহিতসী গ্রামের রানা তালুকদার বলেন কুমারুম সেচ স্কীম ও নয়াহাটি সেচ স্কীম এলাকার ও গজারিয়া সেচ স্কীম এলাকায় প্রশাসন এর নজরদারি রাখা দরকার। সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের ১৭ বছর মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার জোরপূর্বক কৃষকের নিকট থেকে ধান আদায় সহ বিভিন্ন অভিযোগ তার উপর রয়েছে। কৃষকদের নিকট থেকে সরকারের নির্ধারিত দর থেকে বাড়তি দরে সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মহিবুল রহমান নয়াহাটি কুমারুম সেচ স্কীম থেকে দুই থেকে তিন মন ও গজারিয়া সেচ স্কীম থেকে আড়াই থেকে তিন মন ধান আদায় করছে।

এ বছর আবার নতুন করে নয়াহাটি কুমার অনু শেষ প্রকল্পের জন্য উপজেলা সেচ কমিটিতে আবেদন করেছে ম্যানেজার নিয়োগের জন্য। একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও হবিগঞ্জ জেলা বিআরডিসির সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা রাকিবুল হক এর সাথে মহিবুর রহমান যোগাযোগ করছে।

সূত্রটি আরো জানায় যে কোন কৌশলে বিআরডিসির সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা মহিবুর রহমানকে নয়াহাটি কুমারুন সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগ করে দেবে বলে আশ্বাসও দিয়েছে।

এই দুই সেচ প্রকল্প থেকে প্রতিবছর অর্ধ কোটি টাকার বেশী আয় হচ্ছে। সেচ স্কীম ম্যানাজার আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী নেতা মহিবুর রহমান শূন্য থেকে আজ কোটিপতি। এ বিষয়ে সেচ প্রকল্প ম্যানেজার মহিবুর রহমান সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন কৃষকরা স্বেচ্ছায় আমাকে বেশী ধান দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা বিআরডিসির সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা রাকিবুল হক বলেন ১৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে কমিটি একটি সিদ্ধান্ত নেবে,

গত বছর গোপন দল পত্রের মাধ্যমে সেচ প্রকল্পের ম্যানেজারগগণ সেচ প্রকল্প নিয়েছে কুমারুন প্রকল্পে ৩৩ শতকে ১৯ কেজি ধান বেশী নিয়ে প্রকল্প ম্যানেজার মহিবুর রহমান কৃষকরা অভিযোগ দিলে আপনি তাকে সতর্কী করে নোটিশ দিয়েছিলেন সে কি জবাব দিল প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সে সে জবাব দিয়েছে আমি বেশি নেয়নি, আপনি তখন থেকেই পেয়েছেন তিনি বলেন আমার অফিস থেকে আমি একজন কে দিয়ে তদন্ত করিয়েছিলাম, তদন্তে ধান কৃষকের কাছ থেকে বেশি নিয়েছে তা প্রমাণিত হয়েছে,? তাহলে এ বৎসর কি রহমানের আবেদন বাতিল বলিয়ার জন্য হয়েছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ১৮ তারিখ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন যদি নিয়ে থাকে তাহলে প্রমাণ সহ লিখিত অভিযোগ দেন। আমি ব্যবস্থা নিব।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button