

দেশের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান আর্টিজান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২৩৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। একই সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রমিকদের মজুরি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার ও কীটনাশকের ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও চায়ের বাজারমূল্য সে অনুপাতে বাড়েনি। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যয়ও বেড়েছে।
এনটিসির আওতাধীন হবিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের ১২টি চা বাগানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে এসব শ্রমিক পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ পুনঃতফসিল, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিপণন সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাজার বৃদ্ধি করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
এ বিষয়ে এনটিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান বলেন, “উৎপাদন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণে কাজ চলছে। আমরা আশাবাদী, ধীরে ধীরে লোকসান কমিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।



