জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কুড়িগ্রামে মশাল প্রজ্জ্বলন

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজারহাট উপজেলার বুড়িরবাজার তিস্তা নদীর চরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই—তিস্তার ন্যায্য হিস্যা চাই” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীর। মশাল হাতে হাজারো মানুষ অংশ নেন এই কর্মসূচিতে।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফা বলেন, তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে। জনগণ এখন তিস্তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে রাস্তায় নেমেছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। যারা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করবে, তারা জাতীয় স্বার্থের বিরোধিতা করবে। তিস্তা বিরোধীরা জাতীয় শত্রুতে পরিণত হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে, অর্থাৎ আগামী তিন মাসের মধ্যেই তিস্তা মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। অন্যথায় কুড়িগ্রামের মানুষকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল অচল করে দেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ সোহেল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, তিস্তা এখন শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই অঞ্চলে খাদ্যসংকট ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখী লংমার্চে নামবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অবহেলায় তিস্তার বুকজুড়ে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। ফলে নদীপাড়ের মানুষ দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হচ্ছেন।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তা নদীর ভাঙন, চর জেগে ওঠা ও পানিপ্রবাহ হ্রাসের কারণে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষিজমি বিলীন, ঘরবাড়ি ধ্বংস ও জীবিকা হারিয়ে মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

একই দাবিতে উলিপুর উপজেলার নাগরাকুড়া টি-বাঁধ এলাকায়ও মশাল প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে “জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই” স্লোগানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ছাত্র ও যুবসমাজের সদস্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button