জাতীয়

ত্রাণের ২০ পার্সেন্ট না পেয়ে ইউপি কর্মকর্তাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা, থানায় অভিযোগ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

বরিশালের মুলাদী উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে মারধর এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নদীভাঙন কবলিত ১৫০ জন অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ৩ টন ত্রাণের চাল বিতরণের সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের সময় মঙ্গলবার দুপুরে বেল্লাল হোসেন সরদার, সুজন চৌকিদারসহ ৫–৬ জন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, তারা তালিকা প্রস্তুত নিয়ে প্রশ্ন তুলে গালিগালাজ করেন, সরকারি কাজে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এর আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন এবং ভিজিএফ ও ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল ও কার্ড বিতরণে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের দাবি, ত্রাণের চালের সুবিধাভোগী তালিকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনার সূত্রপাত।

মুলাদী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ঘটনার দিন ইউনিয়ন পরিষদে যাননি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর বা হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, প্রশাসনিক কর্মকর্তার করা জিডির ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জিডির কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button