জাতীয়

নিজ হাতে ১২ টি লাশ তুলেছি ভ্যানে, ওই সরকারকে ক্ষমা করুম না

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

ভাইরে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পোলাপান যে আন্দোলন করছে, তার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলাম। এই যে দেখেন যাত্রাবাড়ী থানা, এখান থেকে গুলি করতে করতে বের হয় পুলিশ। আমি নিজের হাতে ১২টা লাশ ওই গলিতে নিয়ে রাখছি এবং ভ্যানে তুলছি। কত পোলাপান যে মার খাইছে, তার তো হিসাব নাই।

এই দৃশ্য জীবন চলে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ভুলতে পারব না। পুরা ঢাকায় যে আন্দোলন হইছে, তার চেয়ে বেশি হইছে এখানে। আমনেরে যদি আমি পোলাপাইনের এই আন্দোলনের ঘটনা বলি, বহু সময় লাগবে।

জীবনে এমন দৃশ্য দেখিনাই। পুলিশ গুলি চালাইতেছে, অন্যদিকে পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করলেও আবার পুলিশরে প্রতিরোধ করছে। পোলাপান যা করছে এই আন্দোলনে, তা খাতায়-কলমে না লিখলেও আমাগো মন থেকে মুছে যাইবে না। আর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ যা করছে পুলিশের সঙ্গে থাইকা, ওগো জীবনেও ক্ষমা করুম না। ওরা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য না ভাই।”

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে মুড়ি বিক্রেতা জয়নাল আবেদিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বছরেও তার দাবি, আন্দোলনের সময় নিজের চোখে দেখা সহিংসতার স্মৃতি তিনি ভুলতে পারেননি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, কাজলা, দনিয়া, কোনাপাড়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেকের অভিযোগ, ওই সময় যাত্রাবাড়ী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। তবে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম-সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থক এবং বিপুলসংখ্যক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে যুক্ত হন।

জয়নাল আবেদিনের মতো আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সরকার বা রাজনৈতিক শক্তির সময় এ ধরনের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য কার্যকর আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button