

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, যুবসমাজের নৈতিক চরিত্র গঠনে এবং মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলাবান ও নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে কার্যকর মাধ্যম।
গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, “আমি জীবনে কখনো কোনো স্পোর্টসম্যানকে খারাপ কাজে সম্পৃক্ত হতে দেখিনি। খেলাধুলার এটিই সবচেয়ে বড় মহত্ত্ব।”
তরুণদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখা হলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ত্রিশাল নির্বাচিত হয়েছে কারণ এখানে আগে থেকেই আর্মি স্পোর্টস স্কুল রয়েছে এবং ঢাকা থেকে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব।
কমপ্লেক্সটি দেশের সর্ববৃহৎ ও আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স হবে, যেখানে এশিয়ান গেমসসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা যাবে। ভবিষ্যতে এটিকে এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে কমপ্লেক্স পরিচালিত হবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে ঢাকা থেকে শাটল ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ, রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ অগ্রগতি পেয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমিতে নির্মিতব্য এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমপ্লেক্সে ২৩টি ইনডোর গেমস, ৭টি আউটডোর গেমস ও ৩টি অ্যাকোয়াটিক ইভেন্টসহ মোট ৩৩টি ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হবে। এছাড়া থাকবে অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম, ফুটবল স্টেডিয়াম, টেনিস কমপ্লেক্স, হকি স্টেডিয়াম এবং শুটিং কমপ্লেক্স।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে সেনাপ্রধান হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ সেনানিবাসে পৌঁছান এবং পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে স্থানীয় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি পেশাদারি, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেনারেল কমান্ডিং অফিসার (আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড), সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক এবং যুব ও ক্রীড়া ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



