৩০০ শিশু মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন? সংসদে শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্ন


অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রকৃত সফলতা সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও মুখের হাসিতে প্রতিফলিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গেলে মানুষ সেই সুফল খুঁজে পায় না। তার ভাষ্য, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তো বটেই, সংসদ সদস্যদেরও কার্যকর মতামত দেওয়ার সুযোগ সীমিত।
নিজ নির্বাচনী এলাকায় ‘নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ ও সাংবাদিকদের মতে, সংসদের আলোচনায় বাস্তব সমস্যাগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।
বাজেট উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ড. মাসুদ বলেন, উন্নত দেশগুলোতে বাজেট উপস্থাপনায় ইনফোগ্রাফিক, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজবোধ্য তথ্যচিত্র ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশে এখনো সেই আধুনিকায়ন হয়নি।
স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ৭০০ শয্যার ওই হাসপাতালে ১৮০টি বেড বিনামূল্যে দেওয়া হতো, প্রতিদিন গড়ে ২৩টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হতো এবং রোগী ও স্বজনদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। অথচ ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশে হামে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা কেন নিশ্চিত হয়নি। তার দাবি, হাসপাতালটির ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ড. মাসুদ বলেন, বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবির সঙ্গে বাস্তব চিত্রের অমিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নত হলেও পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের অবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা সফরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য তখনই নিশ্চিত হবে, যখন এর সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছাবে।



