

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো চাপ বা ভীতি উপেক্ষা করা হবে। স্বাধীনতার পর যারা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তিস্তা নদী আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও স্বার্থনির্ভর রাজনীতির অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। দীর্ঘ বছর ধরে যারা জনগণের আস্থা ভেঙেছে, তাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনীতিকে চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির হাত থেকে মুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফলই নতুন দিনের দিকনির্দেশনা দেবে এবং তরুণদের হাতে দেশ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বুড়িমারি স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করা হবে এবং অবহেলিত অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের সূচনা ঘটবে। সংকটকালে দেশ না ছেড়ে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দেশে বৈষম্য থাকবে না এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপযুক্ত বেতন না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রবণতা তৈরি হয়। নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, সমাজে তাদের মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা হবে।
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। দলের নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ই তাদের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন।
সভা শেষে লালমনিরহাট ও নীলফামারীর সাতজন প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির ও সদর আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় জোটের স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।
এর আগে সকাল থেকেই হেলিপ্যাড মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল ও বিভিন্ন যানবাহনে করে সমর্থকেরা সভাস্থলে আসেন। দুপুরে হেলিকপ্টারে পৌঁছে জনসভায় বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।



