দূর্ঘটনা

২৭ দিনে সিলেট নগরে পাঁচ খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

সিলেট নগরে গত ২৭ দিনে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একই ঘটনায় খুন হয়েছেন তিনজন। সর্বশেষ রোববার রাতে নগরের ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাড়ির কাছে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত নগরে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে ২৭ জুলাই রাতে কাজীরবাজার সেতুর ওপর ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয় কিশোর রিফাত আহমদ।

এরপর ১২ আগস্ট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় খুন হন ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে গৃহপরিচারিকাকে দেখে ফেলায় প্রথমে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে দম্পতিকেও হত্যা করা হয়।

সর্বশেষ রোববার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ইসলামাবাদ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাহাবুদ্দিন বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ২০২০ সাল থেকে তিনি পরিবার নিয়ে শাহপরান ইসলামাবাদ এলাকায় বসবাস করছিলেন। শাহপরান (রহ.) মাজারের প্রধান ফটকের পাশে তাঁর একটি দোকান রয়েছে।

স্বজনেরা জানান, রোববার রাতে দোকান থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন শাহাবুদ্দিন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে যায়। তাঁর ঘাড় ও গলায় একাধিক কোপের চিহ্ন পাওয়া যায়।

নিহতের ছোট ছেলে রেদওয়ান আহমদ বলেন, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল না বলে দাবি করেছেন তাঁর ভাতিজা আলামিন জুয়েল। তাঁর ভাষ্য, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেও হামলাটি করা হয়নি। কারণ, শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে থাকা আইফোন ও প্রায় ১০ হাজার টাকা অক্ষত ছিল।

এর আগে ২১ আগস্ট কাজীরবাজার সেতুতে রিফাত আহমদ হত্যা মামলার অভিযুক্ত জুয়েল আহমদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ২৫ দিন পর গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গত শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট মহানগরের সংসদ সদস্য খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি সিলেটে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, নগরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, মোবাইল টিম পরিচালনা এবং অপরাধীদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা জমিসংক্রান্ত বিরোধে নিজেরা ঝামেলায় না জড়িয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সিলেটের সভাপতি সৈয়দা শিরীন আক্তার বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button