

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে দেশের মাটিতে পা রেখেই অসুস্থ সহযোদ্ধাকে দেখতে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খাঁন মোহাম্মদ সামি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেই এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি দেখতে যান তার সহযোদ্ধা মোফাজ্জল চৌধুরী মোর্শেদকে। সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি ছুটে যান সিলেটের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোফাজ্জল চৌধুরী মোর্শেদ।
রাজপথের লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকা সেই সহযোদ্ধাকে সামনে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুজনই। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় হাসপাতালের পরিবেশও হয়ে ওঠে আবেগঘন। আন্দোলনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সামির ঘনিষ্ঠরা জানান, “রাজপথের সহযোদ্ধাদের কখনো ভুলেননি সামি। দূরে থাকলেও তিনি সবসময় খোঁজ রেখেছেন সবার।”
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সিলেটের রাজপথ ছিল উত্তাল। আন্দোলনের শুরু থেকেই সামনের সারিতে ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা খান মোহাম্মদ সামি। জাতীয়তাবাদী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই তরুণ আন্দোলনের দিনগুলোতে হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের এক সাহসী মুখ।
টিয়ারশেলের ধোঁয়া, জলকামান আর গুলির শব্দে যখন পুরো নগরী আতঙ্কে স্তব্ধ, তখনও রাজপথ ছাড়েননি সামি। আন্দোলনের একাধিক সংঘর্ষে আহত হন তিনি। শরীরে বুলেটের ক্ষত আর রক্তাক্ত অবস্থাতেও সহযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে। সেই সময় সিলেটের রাজপথ যেন পরিণত হয়েছিল এক রণক্ষেত্রে। আন্দোলনের উত্তপ্ত এক দিনে পাশে থাকা সাংবাদিক তুরাব নিহত হন। সেই স্মৃতি আজও আন্দোলনসঙ্গীদের হৃদয়ে বেদনার হয়ে আছে।
পাঁচ আগস্টের পর আন্দোলনের বিজয়ে আনন্দের ঢেউ ছড়িয়ে পড়লেও সামির জীবনে শুরু হয় নতুন লড়াই। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
প্রবাসের বিলাসবহুল জীবনযাপনের সুযোগ থাকলেও দেশের মাটি, মানুষ ও রাজনীতির প্রতি ভালোবাসা তাকে বারবার টেনে এনেছে নিজের শিকড়ে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে অটল থাকা এই তরুণ নেতা শেষ পর্যন্ত জন্মভূমির টান উপেক্ষা করতে পারেননি। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে অবশেষে তিনি ফিরেছেন নিজের শহর, নিজের মানুষ এবং রাজপথের সহযোদ্ধাদের কাছে।
আন্দোলনের রাজপথে সাহসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা খান মোহাম্মদ সামির দেশে ফেরা ঘিরে সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং নতুন প্রত্যাশা।



