সারাদেশ

ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

ঢাকা, ১৩ জুন:

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিদ্যমান নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা ও কার্যকর কর্মসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।


শনিবার এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা চাই, তবে তা অবশ্যই পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হতে হবে। ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি ভালো কর্মসম্পর্ক থাকা উচিত।”
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদি আমিন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
হুমায়ুন কবির বলেন, কূটনীতির স্বাভাবিক নিয়ম হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কর্মসম্পর্ককে নিয়মিত ও সুসংহত করা, এবং সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা একটি সফর করেছি। আমরা ঢাকায় সফর প্রত্যাশা করছি। উভয় দিক থেকেই আমরা ভারতের সঙ্গে কর্মসম্পর্কের দৃশ্যমানতা বাড়াব। আমরা সেটাই করতে চাই। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং গত ১৫ বছরে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “বিরাট ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “সম্পর্কটি ছিল একমুখী এবং তা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়নি।”

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নয়াদিল্লি সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এখনও ইতিবাচক রয়েছে। ওই সফরে হুমায়ুন কবিরও অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে এবং তারা সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া ও অগ্রগতি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আমরা তা করতে পারি এবং তা অর্জন করাও সম্ভব। অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জ সব সময়ই থাকে। যখন এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন, যিনি বাংলাদেশে দেড় হাজার মানুষ হত্যার পর দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন, এখনো কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি এবং সেখান থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তখন অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে।”


তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে যে, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আর কোনো অস্তিত্ব নেই।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনে তিনটি বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—
১. “দ্য পলিসি কম্পাস – অ্যাডভান্সিং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট”, যেখানে নীতিগত পূর্বানুমানযোগ্যতা, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
২. “ক্যাপিটাল ফর গ্রোথ – ফাইন্যান্স, কমার্স অ্যান্ড ট্রেড”, যেখানে অর্থায়ন সংস্কার এবং বিনিয়োগ আহরণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
৩. “দ্য নিউ স্টেজ – গভর্নমেন্ট পলিসি, এআই, ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড স্পোর্ট”, যেখানে উদীয়মান প্রবৃদ্ধির খাত এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক পরিবর্তন, ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে “রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি ২০২৬” সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ আয়োজনের লক্ষ্য হলো নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে অধিকতর সমন্বয় সৃষ্টি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button