

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বৃক্ষরোপণ কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; এটি পরিবেশ রক্ষা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং জাতির প্রতি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, আজ রোপণ করা একটি গাছই আগামী দিনের নির্মল পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি হতে পারে।
বুধবার (৮ জুলাই) ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষ যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তবে বৃক্ষরোপণ একটি জাতীয় দায়িত্ব ও সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে।
রাষ্ট্রপতি জানান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’ শুরু হচ্ছে জেনে তিনি আনন্দিত। তিনি বলেন, প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বৃক্ষের অবদান অপরিসীম।
তিনি বলেন, দ্রুত নগরায়ণ, বনভূমি সংকোচন, পরিবেশদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ নানা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের বিকল্প নেই। এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিপাদ্য—‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণকে জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রজন্মগত উন্নয়নের একটি সবুজ বিপ্লবে রূপ দিতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি বনভূমি, প্রান্তিক জমি, উপকূলীয় অঞ্চল ও চরাঞ্চলে বনায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এসব উদ্যোগ একটি সবুজ, টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫’ এবং ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’-এ সম্মানিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক বনায়নের সব উপকারভোগীকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন।



