

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইং। তবে কোনো বাধাই নারী ভোটারদের দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেত্রীরা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা উইংয়ের নেত্রীরা। এরপর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মহিলা বিভাগের প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জেনারেল নেসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি সাইদা রহমান এবং রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হাবিবা চৌধুরী।
বৈঠক শেষে ডা. হাবিবা চৌধুরী বলেন, দেশের মোট ভোটারের প্রায় ৫০ শতাংশ নারী। আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চাই। বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মা-বোনেরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই সুযোগ নষ্ট করতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের অন্তত ১৫টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার সচিত্র নথিপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয় দেখিয়ে নারীদের দমন করা যাবে না। নারীরা অবলা নয়, তারা সাহসী। যেখানে বাধা আসবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নেসা সিদ্দিকা বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন এবং কোরআনের বিধান অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। আল্লাহ তায়ালা পুরুষকে নারীর পরিচালক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাই শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। মুখ্য হলো নারীর অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে কি না। গত ৫৪ বছরে দেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীদের নিরাপত্তা কি আদৌ বেড়েছে—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আমরা মানবিক নেতৃত্ব চাই।
তিনি আরও জানান, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত নেত্রীরা অভিযোগ করেন, মাঠ পর্যায়ে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি। শরিফ ওসমান হাদি ও রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাত দেখালে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে ‘আজগুবি’ ও ‘ভীতু মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তাদের দাবি, জামায়াতের প্রতি জনগণের বাড়তে থাকা সমর্থন দেখে একটি পক্ষ অস্থির হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর নির্বাচন কমিশনাররা অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান ডা. হাবিবা চৌধুরী। তিনি বলেন, কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



