

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
শুধু মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেই হবে না, সেই রায় কার্যকরও হতে হবে। তাহলেই আমার পরিবারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলো কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে।’
মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন জুলাই আন্দোলনে নিহত মিরাজুল ইসলাম মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম।
তিনি বলেন, বিচার নিশ্চিত করতে এমন আইন ও তার কার্যকর প্রয়োগ প্রয়োজন, যাতে কোনো ধরনের দুর্বলতা বা ফাঁকফোকরের সুযোগ না থাকে। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আশঙ্কা করেন, তার ছেলে মিরাজ হত্যার বিচার হয়তো তিনি দেখে যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আব্দুস সালামের দাবি, তার ছেলে হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও এখন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ভয় হয়, শেষ পর্যন্ত এই মামলাটিও হয়তো বিচারহীন থেকে যাবে।’
তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী থানার সামনে আন্দোলনের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন মিরাজ। এ সময় থানার ভেতর থেকে ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, ছোট দুই ভাইয়ের লেখাপড়া ও পরিবারের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় একটি মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জের দোকানে কাজ করতেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন মিরাজ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়।
ছেলের মৃত্যুর পর থেকে বিচার দাবিতে সোচ্চার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি শুধু আমার সন্তানের জন্য নয়, সব ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার চাই। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার শুধু ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নেও দেখতে চাই।’



