

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় রুবেল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার খাজুরা বাজার তেলপাম্প এলাকায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে। এতে নিহত রুবেলের স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজিত জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা তেলীধান্যপুড়া গ্রামের বাসিন্দা রাব্বির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের সামনে রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কাভার্ডভ্যান চালক ছিলেন। তিনি উপজেলার তেলীধান্যপুড়া গ্রামের মোনতাজ ঢালীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে কাভার্ডভ্যান নিয়ে খাজুরায় এসে তেলপাম্পে গাড়ি রেখে পাশের একটি বাড়িতে যান রুবেল। পরে সেখান থেকে হেঁটে ফেরার সময় তার পথরোধ করে একই গ্রামের রাব্বিসহ তিন থেকে চারজন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের মা ফিরোজা বেগমের দাবি, স্থানীয় একটি মাদরাসা মাঠে আড্ডা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে রুবেলের সঙ্গে রাব্বির বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরে রাব্বি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের ভাই রাজিব হোসেন জানান, হামলার সময় রাব্বির সঙ্গে আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল। খাজুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে রুবেলকে দাফন করা হয়েছে।
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রধান অভিযুক্ত রাব্বি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



