

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে এক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে তার বাবা ও বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বগুড়া শহর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
তবে ফারুক হোসেনের অভিযোগ, কোনো কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ছাড়াই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার দাবি, এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি।
দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিনি অংশ নেন।
দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সিফাত হোসেনের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফারুক হোসেন বলেন, বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি শুনেছেন, তবে এর আগে তাকে কোনো শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক এবং ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলের অংশগ্রহণের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকলে, একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য নেতাদের ক্ষেত্রেও সমান নীতি অনুসরণ করা উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনার কারণেই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ফারুক হোসেনকে মহানগর ও জেলা বিএনপির সব সাংগঠনিক কাঠামো থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।



