জাতীয়

এইচএসসি আন্দোলনে বিরোধী দলের ইন্ধনের অভিযোগ বিএনপি নেতা রাশেদ খানের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-সংক্রান্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পেছনে বিরোধীদল ও ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান।

বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি ও সরকারের অবস্থান নিয়ে রাশেদ খান লিখেছেন, কয়েকশ শিক্ষার্থী ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কে কর্মসূচি পালন করায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ও প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের পেছনে বর্তমান বিরোধী দল ও ‘পতিত স্বৈরাচারের’ ইন্ধন রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সরকার কোনো ভুল করলে সেটিকে কাজে লাগিয়ে মাঠে আন্দোলন তৈরির চেষ্টা করা হতে পারে। পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, তাঁর ছাত্রজীবনে পরীক্ষা শেষে বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল স্বাভাবিক বিষয়। বর্তমানে আন্দোলনরত কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রশ্ন সহজ করার দাবির কথাও শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের দাবি যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। এরপরও সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করার পেছনে বিরোধী পক্ষের উসকানি থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পোস্ট ও মন্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে, যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ নিতে না পারে।

উল্লেখ্য, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে ভুল, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন পরীক্ষার্থীরা। এতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাবসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button