

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা এখন জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সম্মানে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে আমরা সবাই মিলে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিলাম। জনগণ সেই কর্মসূচির পক্ষেই রায় দিয়েছে। ফলে এটি এখন বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা। এটি বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শরিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য ও সমন্বয়ের বিকল্প নেই। মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে শরিকদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। “ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের জনগণ। জনগণের সমর্থন যতদিন থাকবে, ততদিন আমাদের শক্তিও অটুট থাকবে,” বলেন তিনি।
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের সময় যারা রাজপথে ছিলেন না, তারাও এখন আন্দোলনের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ৫ আগস্টের পর তারা ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে এসব শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রায় সব খাতই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করে মানুষের দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছি। শতভাগ সফল না হলেও মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাদের সঙ্গে একই টেবিলে নৈশভোজে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য রাখেন।
নৈশভোজে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের ৪১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



