

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশ্রয় পেয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফর হোসেনের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তদন্তে সেসব বিষয় উঠে আসবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন দেশে অবাধে যাতায়াত করেছেন। এমনকি বাংলাদেশেও নির্বিঘ্নে অবস্থান ও চলাফেরা করেছেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, মোজাফফর হোসেন বাংলাদেশের টেলিফোন নম্বর ব্যবহার করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বসবাস করতেন। সরকারের প্রশ্রয় বা সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তার সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব ছিল না বলেই প্রসিকিউশনের ধারণা। তাদের মতে, তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল এবং সেই সূত্রে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধেও জড়িত ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো ব্যক্তিদের সঙ্গেও মোজাফফরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে হবে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমের বাইরে। ট্রাইব্যুনাল তদন্ত করছে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত ঘটনাগুলোতে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আমিনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মোজাফফর হোসেন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাইব্যুনালে আনা হবে। অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালিত হবে।
এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২১ জুলাই তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।



