

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
গাজীপুরের শ্রীপুরে এক যুবককে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিকদলের এক নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় তাকে মারধরের পাশাপাশি গরম লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ওই যুবক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী সজীব মিয়া (৩০) উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি দেওচালা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত শরীফ সরকার জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
সজীবের বাবা কফিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ২১ জুলাই রাতে এমসি বাজারে তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সজীবকে মারধর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাতভর নির্যাতনের পর তাকে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সজীবের মা খালেদা আক্তার দাবি করেন, তার ছেলের শরীরজুড়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গরম লোহার রড দিয়ে দগ্ধ করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত শরীফ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সজীব একটি হত্যা মামলার আসামি। তাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। মারধরের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, সজীব গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তাকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তার মায়ের দেওয়া লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, সজীব একটি হত্যা মামলার আসামি হলেও এ কারণে তাকে মারধরের কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে জেলা শ্রমিকদলের সদস্যসচিব আবুল কালাম প্রধান বলেন, অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



