জাতীয়

সিলেটের ৫ উপজেলায় এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, মোতায়েন ৫ প্লাটুন বিজিবি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

সিলেটের পাঁচ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে ৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কানাইঘাট ও ওসমানীনগর এবং শুক্রবার (৩১ জুলাই) কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে পদযাত্রা শেষে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কানাইঘাট ও সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে এবং শুক্রবার বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট ও সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এনসিপির এসব কর্মসূচিকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জেলা পুলিশ, ডিবি, এপিবিএন, সাদা পোশাকের সদস্যদের পাশাপাশি ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

পদযাত্রাকে ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এনসিপির নেতাদের দাবি, একটি পক্ষ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর ধারাবাহিকতায় সিলেটের পাঁচ উপজেলায়ও কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু, মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।

সম্প্রতি হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা এবং দলীয় নেতাদের শহরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর সিলেটের কর্মসূচি ঘিরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ওসমানীনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুয়েব আহমদ বলেন, “আমরা একটি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি এবং কাউকে আঘাত করিনি। আমরা গঠনমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। তবে কেউ যদি হিংসাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন, তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। আমরা আশা করি, এনসিপির নেতারাও দায়িত্বশীল বক্তব্য দেবেন এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।”

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, “ওসমানীনগরে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা আমরা করছি না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

এদিকে, কেন্দ্রীয় নেতাদের কানাইঘাট সফর উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করেছেন এনসিপি নেতারা।

এনসিপি সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ বুরহান উদ্দিন ইউসুফ বলেন, “পদযাত্রাকে ঘিরে কানাইঘাটে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আমরা আশাবাদী, সারা দেশের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে কানাইঘাটের আয়োজন অন্যতম সফল হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কর্মসূচি সফল করতে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হবে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার জুনেদ আহমদ বলেন, “সিলেট সব সময় সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আমরা চাই, হবিগঞ্জের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি সিলেটে না ঘটুক। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের একাধিকবার কথা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সরকার পরিবর্তনের পর যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ক্ষতিকর হবে। দুষ্কৃতকারীদের বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এনসিপি কখনো উসকানি, হামলা বা বলপ্রয়োগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। হবিগঞ্জের মতো ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে অবস্থান নিতে হবে। সিলেটের সব কর্মসূচিতে আমরা সব রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিককে আমন্ত্রণ জানাই।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button