জাতীয়

হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি দায়ের করেন। পরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ মামলাটি গ্রহণ করেন।

মামলা দায়েরের সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল হক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মামলা হয়েছে। তবে এখনো এজাহারের কপি হাতে পাইনি।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।

পথে প্রথমে শ্রীমঙ্গলের মুছাই এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির পর তারা সেখান থেকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। পরে বাহুবল উপজেলার রশিদপুর এলাকায় আবারও তাদের আটকে দেওয়া হলে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের বাগবিতণ্ডা এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা এনসিপি নেতাদের মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে নেতারা হবিগঞ্জে প্রবেশের দাবিতে অনড় অবস্থান নেন।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে সবুজবাগ এলাকায় তাদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে রাত ৮টার দিকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে চলে যান।

হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button