সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সমবেদনা বার্তা নিয়ে কাতার যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির

আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে ১৬ জুলাই অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমবেদনা জানাতে দোহা সফরে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে স্পিকারের নেতৃত্বে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবিরকে সঙ্গে নিয়ে একটি প্রতিনিধিদল দোহার উদ্দেশে রওনা হবে। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা একটি সমবেদনাপত্র কাতারের আমিরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সূত্র জানায়, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কাতারের শোকাহত রাজপরিবার এবং দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা হবে। আগামী ১৬ জুলাই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির দোহা সফর শেষে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন। সেখানে কয়েকটি নির্ধারিত বৈঠক শেষে ১৫ জুলাই তার বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এদিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। একই সঙ্গে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, কাতারের আমিরের কার্যালয় রবিবার (১২ জুলাই) এক বিবৃতিতে দেশটির সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

শেখ হামাদ ১৯৯৫ সালে কাতারের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত দেশটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে কাতার অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০১৩ সালে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন তার ছেলে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে।

বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে সাবেক আমিরের মৃত্যুতে বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button