

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির ভেতরে ও বাইরে থাকা ইরানিরা মানসিকভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
৩০ জানুয়ারি রাত থেকে দেশজুড়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে। অনেক মানুষ রাতভর ঘুমাতে পারেননি। তেহরানের এক ৪৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী জানান, বিস্ফোরণের ভয় থেকে তিনি বারবার জেগে উঠছিলেন।
৩১ জানুয়ারি সকালে ইরানি নাগরিকদের মধ্যে আলোচনায় দেখা যায়, অনেকেই মনে করছেন, হামলা খুব কাছাকাছি। বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যেও একই আতঙ্ক কাজ করছে। কেউ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে, আবার অনেকে সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত এক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি ও ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে অস্ত্রচুক্তি ইরানিদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এদিকে, দেশটি ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সংকট এবং বিক্ষোভ দমনজনিত চাপের মধ্যে রয়েছে। গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনার স্মৃতি এখনও মানুষের মনে তাজা।
এই পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধকালীন সতর্কতার পরামর্শ ছড়ানো হয়েছে—খাবার ও পানি মজুত রাখা, জরুরি ওষুধ কেনা, পরিচয়পত্র এক জায়গায় রাখা এবং দ্রুত সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া।
তেহরানের বাসিন্দারা জানালার কাচ সিল করছেন, কেউ কেউ কয়েক মাসের ওষুধ কিনে রাখছেন। একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন, “যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, আগে থেকেই সাবধান হওয়াই ভালো।”
এ উদ্বেগ শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রায় ৪০ লাখ প্রবাসী ইরানির মধ্যেও ছড়িয়েছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ হারানোর ভয় পাচ্ছেন। বিদেশে থাকা অনেক প্রবাসী পরিবারকে শহর ছাড়ার জন্য বলছেন, তবে অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা নিরাপদ জায়গা না থাকার কারণে যেতে রাজি হচ্ছেন না।
এ অবস্থায় ইরানের শহরগুলো আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক থাকলেও—দোকানপাট খোলা, স্কুল চলছে, যান চলাচল সচল—মানুষের মনে গভীর ভয় লুকিয়ে আছে।
একজন তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, “আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ জানে যুদ্ধ কেমন হয়। তাই আতঙ্কের চেয়ে মানসিক প্রস্তুতি বেশি।”
সূত্র: মিডল ইস্ট আই



